সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন

কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপসহ নানা অভিযোেগ

ডেস্ক রিপোর্ট / ৭৩০ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপসহ নানা অভিযোেগ

কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপসহ নানা অভিযোেগ

সিলেট মহানগরীর অনেক পুরনো বিদ্যাপীঠ ‘কাজী জালাল উদ্দিন বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’। টিলার উপরে থাকা বিদ্যালয়টির নামের পাশে জমেছে টিলাসমান অনিয়ম-অভিযোগ। প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালিকের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ, বেতন, বৈষম্য, শিক্ষক নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের ভুলপথে প্ররোচিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগগুলো বর্ণনা করে সমাধান চেয়েছেন। এদিকে, একটি নির্ভরযোগ্যে সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, অনুরূপ একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) দায়ের করা হয়েছে। যা তদন্তাধীন। সাখিলকৃত অভিযোগে -শিক্ষকদের দাবি, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) আকারে জনতা ব্যাংকে জমাকৃত ৫০ লক্ষ টাকা ভেঙে সুদসহ প্রায় ৬৭লক্ষ টাকার একটি বিপুল অঙ্ক উত্তোলন করা হয়। এমনকি ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান অবস্থায় বরখাস্তকালীন বকেয়া পাওনার অজুহাতে দুই দফায় ২৯ লক্ষ টাকার বেশি উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকে অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ খুবই সামান্য। অথচ ওই সময় বিদ্যালয়ের অন্য ব্যাংক হিসাব চালু থাকায় এফডিআর ভেঙে অর্থ তোলার কোনো

প্রয়োজন ছিল না। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সহায়তায় প্রধান শিক্ষক এই অনিয়ম সংঘটিত করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিজে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৬০ শতাংশ হারে ভাতা গ্রহণ করলেও অন্যান্য শিক্ষকরা পান ২০ থেকে-৪০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সরকারি বিধির পরিপন্থী। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য শিক্ষকরা ৪৫ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর ধরে এই বৈষম্য চলমান রয়েছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে যখন শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেন, তখন প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সুবিধাভোগী সদস্যদের সহায়তায় আন্দোলন দমন করেন। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেন এবং অনুগত শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বে বসিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের প্রান্তিক করে রাখেন। একইসঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগের দরখাস্ত লিখিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জোট করেন, যাতে তারা প্রতিবাদ করার সাহস না পান। ২০২৪ সালের একটি স্টাফ কাউন্সিল সভায় মীমাংসিত কয়েকটি ঘটনা নতুন করে এজেন্ডা আকারে তুলে ধরলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক সভা চলাকালেই উত্তেজিত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরে সপ্তম শ্রেণির একটি শাখায় এক শিক্ষকের শিক্ষার্থীদের শাসনের ঘটনা নিয়েও অভিযোগ সাজানো হয় এবং তদন্তে তা প্রমাণ করা হয় যা মূলত ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েছিল। ২০২৪ সালের মিনিস্ট্রি অডিট চলাকালে প্রধান শিক্ষক প্রত্যেক এমপিওভুক্ত শিক্ষকের কাছে দশ হাজার (১ টাকা করে ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিছু শিক্ষক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান শিক্ষক তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তিনি ঘুষ নেওয়ায় ব্যর্থ হন। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত  থাকেন না, ক্লাস নেন না এবং নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ও একাডেমিক পরিবেশ রিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। এই অবস্থায় সহকারী প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক করে দু’জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে সদস্য রেখে একটি নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সব লেনদেনের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষকবৃন্দ। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মাঝেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালিক জানান, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করা হয়েছে  আমার বিরুদ্ধে একটি মহল বহুদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

সূত্র:দৈনিক শুভ প্রতিদিন/ সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫

 

 


এই বিভাগের আরো খবর