সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাত মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৬ জনে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ১১ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিত হাম শনাক্তের সংখ্যায় বিভাগের অন্য তিন জেলার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। জেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৫৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সিলেটে ২৮৭, মৌলভীবাজারে ১২০ এবং হবিগঞ্জে ১১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে দুজনকে রুবেলা রোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯২ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩১ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন রয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৯৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩৭ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯ জন রয়েছেন। এ ছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন চিকিৎসাধীন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৪২, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহজনক হাম রোগে চার জেলায় মোট ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, নিশ্চিত হাম শনাক্তের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুনামগঞ্জে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বিভাগের অন্য জেলাগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।