সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। তিনি জানান, মারা যাওয়া শিশুটির নাম জেসি। তার বয়স ২ বছর। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুভাজ আলীর মেয়ে জেসি হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৯১৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ২৯৮ জন, হবিগঞ্জে ১৩০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৪ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ জন, ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ৫১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে একজন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে পাঁচজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে ২৯৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩৪ জন, ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ৯০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৭ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে মোট ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৩ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সাথে সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।