সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক / ৪৭ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ২৪ রানে ৩ উইকেট তুলে নিলেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের দুর্দান্ত জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ১৭২ রানে। ফলে ৯৯ রানের হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হলো তাওহীদ হৃদয়ের দলকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৩৩ ওভার ৪ বলে সব উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান করতে পারে বাংলাদেশ।নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয়। জ্বরের কারণে একাদশে ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজও।

তবে বোলিংয়ে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর বেন কারানকে ৬ এবং তাফাদজাওয়া সিগাকে ১৬ রানে ফেরান এই পেসার। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা।

১০১ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৮১ রান করেন টেলর। অন্যদিকে ১০৬ বলে ৯টি চারে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন আরভিন। দুজনের ব্যাটে ভর করেই বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।টেলরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান। পরে সিকান্দার রাজাকেও ফেরান তিনি। আরভিনকে আউট করেন শরীফুল ইসলাম। তবে শেষ দিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার অপরাজিত ২১ রানের ইনিংসে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭১।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। শরীফুল ইসলাম ৪৭ এবং সাইফ হাসান ১৭ রান দিয়ে নেন ২টি করে উইকেট। রিশাদ হোসেনের শিকার একটি উইকেট।২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ইতিবাচক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। সৌম্য ৯ রান করে ফিরলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন তানজিদ। ৩৮ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করে আউট হন এই ওপেনার। তার বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।

নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৪ রান করে ফেরেন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে পারেননি। ২১ বলে ১৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ১৭তম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৭ রান।এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি ব্যাটাররা। সাইফ হাসান ২৬ রান করে ফিরলেও বড় ইনিংসের দেখা পাননি মোসাদ্দেক হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। মোসাদ্দেক করেন ১১ এবং সোহান করেন ৫ রান। শরীফুল ইসলাম শূন্য রানে আউট হলে ১২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ এবং তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন। তবে তাদের চেষ্টা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। ৩৩ ওভার ৪ বলে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা পান ২টি করে উইকেট।


এই বিভাগের আরো খবর