শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক / ২২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ও অবসরকালীন আনুতোষিক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে এসব ঘোষণা দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হবে। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হবে।

মহাসমাবেশে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে কিংবা কোথাও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আছে কি না, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আগেভাগেই তথ্য পেয়ে থাকেন। এসব তথ্য সময়মতো স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে পুরো বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব সারা দেশে পড়বে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব অনেক বেশি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে শহরায়ন ও নগরায়ন বাড়লেও অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনো গ্রামে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সাথে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে গ্রামের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা জরুরি।

অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজেও ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তাঁর ভাষ্য, হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বকে পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মূল্যবোধ নষ্ট করা হয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। তৃণমূল পর্যায়েও তৈরি হয়েছিল প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিবেশ।

এ ধরনের সামাজিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। সমাজে এসব মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এই বিভাগের আরো খবর