টেস্ট অভিষেকের শুরুতেই ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডই গড়েননি, জায়গা করে নিয়েছেন ক্রিকেটের প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ সাময়িকী উইজডেনের বিশেষ তালিকায়ও। গত এক শতাব্দীতে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এই বাংলাদেশি ব্যাটার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দল। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন ৩৫৯ বলের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে। এতে ৩০ রানের লিডও পায় স্বাগতিকরা।হৃদয়ের এই ইনিংসে ভেঙে যায় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের পুরোনো রেকর্ড। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২১৯ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ। এবার ২৪২ রান করে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন হৃদয়।
এ ছাড়া টেস্টে নিজের প্রথম শতককেই দ্বিশতকে রূপ দেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এমন কীর্তি তাঁর ইনিংসটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
হৃদয়ের ব্যাটিং নৈপুণ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে উইজডেনও। গত ১০০ বছরে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ভিত্তিতে প্রকাশিত তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন ভারতের করুণ নায়ার। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০৩ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের জহির আব্বাস, ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রান ছিল ২৭৪। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কনরাড হান্টে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ২৬০ রান।বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করে তাওহীদ হৃদয় আরও একবার জানান দিলেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটেও নতুন ইতিহাস গড়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।