অস্ত্রধারীদের ছবি নতুন সিলেটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত ছবি ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে সিলেট নগরীতে ১২জন অস্ত্রধারীর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এছাড়া অন্যান্য বাহিনীও নিজেদের মতো অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে বলে বিভিন্ন বাহিনী সুত্রে জানা গেছে। যদিও এখনো কারো বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি কোন বাহিনী। এনিয়ে সাংবাদিকসহ সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। অস্ত্রধারীদের অবস্থান কারো জানা থাকলে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার এবং সহায়তাকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান এসএমপির মিডিয়া অফিসার উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই থেকে নগরীতে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া শুরু করে যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগসহ আ.লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে ১৮ জুলাই নগরীর আখালিয়া ও ৪ আগস্ট কোর্ট পয়েন্টে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর উপর হামলা চালায়। এসময় অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখে আতংকিত হন সিলেটবাসী। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সিলেটেও আ.লীগের দলীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। কিন্তু এখনো অস্ত্রধারী কাউকে আটক পারেনি পুলিশ কিংবা র্যাব। এমনকি উদ্ধার করা হয়নি ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র। এ নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
এদিকে বিগত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অবৈধ অস্ত্রধারী ১২ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বিভিন্ন উৎসের ছবি ও ভিডিও দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া র্যাবসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য বাহিনীর পক্ষ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথকভাবে অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। বেশকিছু অস্ত্রধারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হবিগঞ্জে আরো ১২ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে কারো নাম প্রকাশ করা হচ্ছেনা বলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে যুদ্ধাস্ত্র বলে খ্যাত এম-১৬ রাইফেলও ছিল। শুধু সিলেট নয়, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি। সেদিন গুলিতে দুজন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রদর্শিত এম-১৬ রাইফেলটি যুবলীগ নেতা শিবলু আহমদের হাতে দেখা গেছে। এর আগে গত ১৮ জুলাই নগরের আখালিয়া এলাকায় পুলিশের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছুঁড়েন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্র-জনতা অবস্থা নিলে তাদেরকে হটাতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা অস্ত্রের মহড়া দেন। তারা অস্ত্র হাতে ছাত্র-জনতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এদিকে গত ৪ আগস্ট হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালান তৎকালীন সংসদ সদস্য আবু জাহিরের নেতৃত্বে অন্তত ১২ জন অস্ত্রধারী। সেদিন অস্ত্রধারীদের গুলিতে দুজন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
জানা গেছে, সিলেটসহ দেশের ১২টি জেলায় যে ১২৬ জন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা গেছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে শনাক্ত হওয়া ১০ জন অস্ত্রধারীর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। ফেনীতে শনাক্ত হওয়া ৩৩ জন অস্ত্রধারীর মধ্যে ১ জনকে, কেরানীগঞ্জে ৪ জনের মধ্যে ১ জনকে এবং সিরাজগঞ্জে ২ জনের মধ্যে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু বিগত ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীই নয়, এর আগেও অবৈধ প্রদর্শনকারীদের গ্রেফতার পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ ছাড়াও আরো বিভিন্ন বাহিনী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্রধারীদের পরিচয় চিহ্নিত করতে কাজ করছে। কিন্তু এখনো কোন অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কারণ তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছেনা। বিভিন্ন বাহিনী উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। দেশের অভ্যন্তরে থাকা সকল অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করা হবে। একই সাথে কারো কাছে তাদের অবস্থান জানা থাকলে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।