রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ঈদের বাজার জমে উঠেছে,বিপণিবিতান থেকে ফুটপাতে ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট / ৫৩৭ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫
সিলেটে ঈদের বাজার জমে উঠেছে,বিপণিবিতান থেকে ফুটপাতে ভিড়

রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে বরাবরে মতোই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদ উৎসব পালনের জন্য প্রস্তুতির শেষ নেই। নতুন পছন্দের পোশাক কেনার জন্য এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে চলছে ছুটাছুটি।

সিলেটে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রমজানের শেষ দশকে এসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ঈদের বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের তরুণ-তরুণী, শিশুরা ঈদ বাজারে। শাড়ি, ড্রেস, গহনা, পাঞ্জাবি, পায়জামা, শিশুদের পোশাক থেকে শুরু করে সব দোকানে এখন ভিড় করছেন ক্রেতারা।

কেনাকাটার কারণে নগরীতে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় হাটাচলা দায় হয়ে পড়েছে। গতকাল ছুটির দিন শুক্রবার থেকে নগরীতের ঢল নেমেছে ক্রেতাদের। দুপুর থেকে শুরু হয় কেনাকাটা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

এবার বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেশীয় পোশাকের আধিপত্য। অন্যান্য বছর ভারতীয় সিরিয়াল ও নায়িকাদের নামে বিভিন্ন পোশাক জনপ্রিয় হলেও এবার বাজারে সেগুলোর তেমন উপস্থিতি নেই। ফলে ভিনদেশীয় পোশাষাকের পাশাপাশি দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেটের অভিজাত শপিংমল আল-হামরা শপিং সিটি, বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজারের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপনিবিতানগুলোতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতেও উপচে ভিড়। সকাল থেকে রাত অব্দি পছন্দের পোশাক ও ঈদ অনুষঙ্গ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা।

ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখাতে ও সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। এসব মার্কেটে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে।

এদিকে গরমকে সামনে রেখে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রি-পিস, লেডিজ টপস, বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি-প্যান্ট, শাড়িসহ বাহারি ডিজাইনের দেশিয় পোশাক। এছাড়া পাকিস্তানী ড্রেস ও মিলছে এসব দোকানগুলোতে। তবে ভারতীয় ড্রেসের সংখ্যা খুবই কম, বিক্রিও তেমন নেই তবে পাকিস্তানী ড্রেসগুলো এবার খুজে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

নয়াসড়কের মাহা ফ্যাশন হাউস থেকে পোশাক কিনেছেন তানিয়া তাবাসসুম। তিনি জানান, এবার দেশি ড্রেসগুলোই ভালো। ভারতীয় ড্রেসগুলো এবার লান হয়ে গেছে। এগুলো কিনতে এবার আর আমাদের আগ্রহ নেই। দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের সময় যা দাম হয় তাই খুব একটা তুলনা করার মতো নয়।

তরুণীদের পোশাক দেড় হাজার থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ছোটদের পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা। মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক ও পার্টি ফ্রক।

কসমেট্রিক্স এবং চুড়ির দোকানগুলোতে তরুণীদের ভিড় বাড়ছে। এ ছাড়া মার্কেটগুলোতে উঠেছে লেহেঙ্গা ও লং কামিজেরও চাহিদাও রয়েছে। ছেলে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে সুতি টি-শার্ট ও বেবি স্যুট। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের প্যান্ট।

তরুণীদের জন্য আছে সারারা, গারারা, নায়রা ও গাউন, থ্রি-পিস, লেডিজ টপস, বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি-প্যান্টসহ বাজেটের মধ্যে পোশাক। পোশাকের দাম ধরা হয়েছে ১৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ২-৪ হাজার টাকার মধ্যেই মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।

তরুণ যুবকদের পছন্দের তালিকায় জগার্স প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জির চাহিদা বেশি। এছাড়া পাঞ্জাবি পায়জামাও বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে দৈনিক গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। সামনে আরও বাড়বে বলে বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করেন।


এই বিভাগের আরো খবর