চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পতন হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এমন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত ফেরাউন, নমরুদ, রেজা শাহ এবং মোহাম্মদ রেজার (১৯৭৯ সালের আগে ইরান শাসনকারী রাজবংশ) মতো বিশ্ব অত্যাচারী শাসকরা তাদের অহংকারের কারনে পতনের মুখে পড়েছিল। তাকেও (ট্রাম্প) ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।’
চলমান বিক্ষোভে বিদেশী সমর্থিত (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) শক্তিগুলো ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে— অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অস্থিরতার মুখে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পিছু হটবে না। সকলের জানা উচিত যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র লক্ষ লক্ষ সম্মানিত মানুষের রক্ত দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং নাশকতার মুখে এটি পিছু হটবে না।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি খুশি করতে চায়। যদি তিনি (ট্রাম্প) জানতেন কিভাবে একটি দেশ চালাতে হয়, তাহলে তিনি নিজের দেশ ভালোভাবে চালাতেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অনেক সমস্যা রয়েছে।’
গত জুনে মার্কিন হামলার কথা স্মরণ করে খামেনি বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধে এক হাজারেরও বেশি ইরানি শহীদ হয়েছিলেন। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আমিই নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং আমিই আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলাম’, এটি স্বীকার করার অর্থ হল তার হাত হাজারো ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।”
ভাষণের শেষে ইরানের তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় তরুণরা, তোমরা নিজেদের প্রস্তুত এবং ঐক্য বজায় রাখো। একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাজিত করতে সক্ষম।’
প্রসঙ্গত, নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে বিক্ষোভের শুরুতেই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বল প্রয়োগ করে এটি দমনের চেষ্টা করেছে। এতে করে এখনই অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।