জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচারের বিস্তার সক্রিয় সিন্ডিকেট ঝুঁকিতে নারী-শিশু
সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র। উপজেলার বালিদাড়া, লালাখাল, গোয়াবাড়ি, টিপরাখলা, ঘিলাতৈল, ডিবির হাওর, কেন্দ্রী, মোকামপুঞ্জি, আলুবাগান, খাসি হাওর, ফুলবাড়ী ও শ্রীপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করছে পাচারকারী চক্রটি। বিশেষ করে দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারের সদস্যদের নানা কৌশলে প্রলুব্ধ করে সীমান্ত পার হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তারা মানব পাচারের শিকার হচ্ছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। এসব অভিযানে একাধিক পাচারকারী গ্রেফতার হলেও অভিযোগ রয়েছে—জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে ও আটক ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে একটি বৃহৎ সিন্ডিকেটের চিত্র উঠে এসেছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ফারহান, আলিম, শাহরুক, শাহিন, সামছু, শংকর, এনাম, মোশাররফ, মিনহাজ, আলাউদ্দিন, তাজেল, মান্নান, নির্মল, সাব্বির, আলমগীর, শাকিল, শাহাবুদ্দিন, ফয়সাল, রহমান, সাইদুল, শরীফ ও আনোয়ারসহ আরও ২০-২৫ জনের নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এদের অনেকেই এলাকায় প্রভাবশালী ও একটি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকায়, সহজে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সীমান্ত পারাপারের নামে জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অনেক সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়।
এ ধরনের ঘটনার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সচেতনতার অভাব মানব পাচারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজিবির অভিযানে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং সীমান্তে যে কোনো পাচার কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা এখন মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকলেও চক্রটি সক্রিয় থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।