জয়পুরহাট শহরের আদর্শ পাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা স্থানীয় একটি ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করেন। গত সপ্তাহে প্রতিদিনের মতো মা কাজে চলে গেলে ঘরে একা থাকার সুযোগে রিকশাচালক সৎ বাবা লিটন ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখায়।
পরবর্তীতে গত ১৮ মে (সোমবার) সৎ বাবা আবারও ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দিলে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে মায়ের কর্মস্থলে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “লিটন মাদকাসক্ত। ঘটনার প্রতিবাদ করায় সে আমাকেও মারধর করেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজন ‘সামাজিক সম্মান’ ও ‘মামলার খরচ’-এর ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরিবারটিকে হাসপাতালে যেতে বাধা দেয়।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণে পরিবারটি শুরুতে হাসপাতালে যেতে পারেনি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসার ডা. রায়হানুল আলম জানান, শিশুটিকে বর্তমানে গাইনি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর খোঁজখবর নিয়েছে। অভিযুক্ত সৎ বাবা লিটনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।