মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

বমিভাব দূর করার সহজ কিছু উপায় জানুন

ডেস্ক / ২৭ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
বমিভাব দূর করার সহজ কিছু উপায় জানুন

অনেক মানুষই ভ্রমণের সময় গাড়ি, বাস কিংবা লঞ্চে উঠলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা শারীরিক অস্বস্তির সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে মোশন সিকনেস বলা হয়। সাধারণত চোখ, কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে পাওয়া সংকেতের অসামঞ্জস্যের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

চলন্ত যানবাহনের কারণে শরীর এক ধরনের অনুভূতি পায়, কিন্তু চোখ ভিন্ন তথ্য গ্রহণ করে। এই অসামঞ্জস্য থেকেই অনেক সময় বমিভাব ও অস্বস্তি দেখা দেয়। তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ভ্রমণে বের হওয়ার আগে খাবারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একেবারে খালি পেটে যাত্রা শুরু করলে যেমন সমস্যা বাড়তে পারে, তেমনি অতিরিক্ত ভারী খাবার গ্রহণ করলেও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই যাত্রার আগে হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা ভালো। কলা, বিস্কুট, রুটি বা অল্প পরিমাণ ভাত খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ঝাল বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এসব খাবার বমি ভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাস বা অন্য যানবাহনে সঠিক জায়গায় বসাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসের সামনের দিকের আসনে তুলনামূলক কম ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। তাই সুযোগ থাকলে সামনের দিকে অথবা জানালার পাশে বসার চেষ্টা করা উচিত। বাইরের দৃশ্য দেখতে পারলে মস্তিষ্ক চলমান অবস্থার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। তবে পেছনের দিকে বেশি দুলুনি অনুভূত হওয়ায় সেখানে অস্বস্তির মাত্রা বাড়তে পারে।

যাত্রাপথে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা বই পড়ার অভ্যাসও সমস্যা বাড়াতে পারে। কারণ এ সময় চোখ স্থির কোনো কিছুর দিকে মনোযোগ দেয়, কিন্তু শরীর চলতে থাকে। এতে মস্তিষ্ক আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং বমি ভাব তীব্র হতে পারে। তাই এর পরিবর্তে দূরের কোনো স্থির বস্তু বা দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা উপকারী হতে পারে।

এ ছাড়া সতেজ বাতাসও এই সমস্যা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বন্ধ ও গরম পরিবেশে অনেক সময় অস্বস্তি দ্রুত বেড়ে যায়। তাই জানালার পাশে বসা কিংবা সম্ভব হলে কিছুটা খোলা বাতাসের ব্যবস্থা রাখা ভালো। ঠান্ডা বাতাস শরীরে স্বস্তি এনে দিতে পারে। প্রয়োজনে ভেজা রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নিলেও কিছুটা আরাম পাওয়া সম্ভব।

প্রাকৃতিক উপায়েও অনেক সময় ভালো ফল পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে আদা বমিভাব কমানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যাত্রার আগে অল্প পরিমাণ আদা বা আদা চা গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া লেবুর গন্ধ, লেবুর রস কিংবা পুদিনাপাতার সুগন্ধও অনেকের ক্ষেত্রে স্বস্তি এনে দেয়।

তবে যদি নিয়মিত ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত বমি বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিশেষ কিছু ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হতে পারে।

সামান্য কিছু সচেতনতা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোটখাটো পরিবর্তন আনলে যাত্রাপথে বমি বা অস্বস্তির সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে ভ্রমণও হয়ে উঠতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময়।

 


এই বিভাগের আরো খবর