মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক, তদন্তের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সাথে ফিফার সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কংগ্রেসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প, তার সহযোগী এবং ফিফার মধ্যে উপহার, অর্থ লেনদেন, সুবিধা প্রদান বা অন্য কোনো যোগাযোগসংক্রান্ত সব নথি চেয়েছেন রাসকিন। এছাড়া গত বছর নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা যে কার্যালয় চালু করেছে, সেখানে আগত দর্শনার্থীদের তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে এসব নথি সরবরাহ এবং সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া ইনফান্তিনোকে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির করানোর ক্ষমতা রাসকিনের নেই।

এ বছরের বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে নতুন প্রবর্তিত ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কেনেডি সেন্টারের সংস্কারকাজ ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে দ্রুত শেষ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প একাধিকবার ইনফান্তিনোর সাথে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর ট্রাম্প, কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সাথে ইনফান্তিনো ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্টেডিয়ামে মাঠে নামার সময় ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনির মুখেও পড়তে হয়।

রাসকিন তার চিঠিতে ২০১৫ সালে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি তদন্তের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফা দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তিনি সংগঠনের নৈতিকতা রক্ষার কাঠামো দুর্বল করেছেন এবং নৈতিকতা কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে সরিয়ে দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের সুযোগে ইনফান্তিনো ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যাকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এক আইন অধ্যাপক এবং ফিফার সাবেক এক নৈতিকতা কমিটির সদস্য ‘বৈধ ঘুষ’ (লিগ্যাল ব্রাইবেরি) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চিঠিতে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির নীতিও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অনেক সমর্থককে ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

রাসকিনের জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ফিফার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সংস্থাটি ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে এবং প্রতারণামূলক বিক্রয় কৌশল ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে সোমবার ইনস্টাগ্রামে ১৫ পর্বের এক বার্তায় সমালোচকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপকে সফল আয়োজন হিসেবে দাবি করেন।

আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতির নির্বাচনের আগে ২০০টির বেশি সদস্যদেশের সমর্থন পেয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনসহ কয়েকটি সদস্যসংস্থা তার বিরোধিতা করছে। বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ফিফার নৈতিকতা তদন্ত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।


এই বিভাগের আরো খবর