সিলেটে হাম পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৩২ জন।
নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যুর পর চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৯ জন।সোমবার সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৮৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ২৮০ জন, হবিগঞ্জে ১০৯ জন, মৌলভীবাজারে ১১০ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন রয়েছেন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ১৩২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৯ জন।
চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৭ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৫ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের সাত মাস বয়সী তাসফিয়া। অপরজন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ১ বছর ৩ মাস বয়সী হামিদুল। তাসফিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং হামিদুল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এর আগে ৮ আগস্ট হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে ৯ আগস্টের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। এর একদিন পর আরও দুই শিশুর মৃত্যুতে চলতি বছরে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২৭ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মারা যাওয়া ১২৭ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের। বাকি ১২১ জন মারা গেছেন হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে।জেলাভিত্তিক হিসাবে, মোট মৃত্যুর মধ্যে সিলেটে ৪৫ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৩ জন মারা গেছেন।
এদিকে প্রতিদিন নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। পরপর দুই দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু এবং একদিনে ১৩২ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় সিলেটের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।