যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।এক মাসে আইসিইর গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেপ্তারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা।
দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই।
ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার কোটা নেই।জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেপ্তার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
তবে রেকর্ড গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে।
গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেপ্তার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে।
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেপ্তার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়।
রেকর্ড গ্রেপ্তারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।
জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সাথে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।