ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বিদেশীনি’ নামের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত সাত জন পুণ্যার্থী।সোমবার সকালে রাজ্যের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের সামনের এই হোটেলের প্রথম তলায় আগুন লাগে।
তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সনতান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরের অবস্থান তারাপীঠ শহরে। শ্রাবণ মাসের বিশেষ পূজা উপলক্ষে তারাপীঠে গিয়েছিলেন নিহত এই পূণ্যার্থীরা।
গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।পুলিশ ও দমকল মোট ২২ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে ন’জন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। আহতদের অনেককেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও দু’জনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। বাকিরা সুস্থ আছেন।
প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুন লাগার পর দ্রুত তা হোটেলের বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। অতিথিদের অধিকাংশই সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন এবং তাদের মধ্যে শিশুও ছিল।
আগুনের ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে গিয়েছিল। অতিথি এবং হোটেলের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ভাল করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রুমের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। এতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
হোটেলটি থানার সামনে হওয়ায় পুলিশ পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকল বাহিনীও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। তবে হোটেলের নীচতলার বিস্তীর্ণ অংশই পুড়ে যায়। এসময় আবাসিকদের কেউ কেউ আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।হোটেল সূত্রে জানা গেছে , ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি (মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার) হঠাৎ ফেটে গিয়ে সেখানে আগুন ধরে যায়। ওই হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, “আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন; কিন্তু ততক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যেসব জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায় এবং বাড়তে থাকে।
আতঙ্কে ঘর থেকে অতিথিরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। বাইরে বের হয়ে তাদের অনেকেই আগুনের মধ্যে পড়ে যান। তখন পুরো হোটেল অন্ধকার হয়ে যায়। পেছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। সে সময়ে অনেকে দগ্ধ হন।