৪ দিনের রিমান্ডে সেই বাবুল মিয়া সিলেটে ট্রিপল মার্ডার
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার তাকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে বাবুল মিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বুধবার সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। হত্যাকান্ডের পর ওইদিনই পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তেকে আটক করে। পুলিশর দাবি, পেশায় রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়ার সাথে গৃহকর্মী তাহমিনার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকালে শারিরীক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বাবুল মিয়া একে একে তিনজনকে খুন করে। বাবুল মিয়া হত্যার কথা স্বীকা করেছে বলেও দাবি পুলিশের।
এরপর শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে তার এজাহারে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার নাম নেই।অভিযোগে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছেন সেলিনা। তবে তার এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়েও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত দম্পতির মেয়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার কথিত প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেলিনার দাবি, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।