বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

সমাধান হয়নি দাবির, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন অব্যাহত

ডেস্ক / ২৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সমাধান হয়নি দাবির, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন অব্যাহত

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের কারণে কলেজের ক্লাস-পরীক্ষাসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইইই বিভাগের তানভীর আহমদ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাহাদ ফয়সাল বক্তব্য দেন।

এর আগে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠক হয়। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তারা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী তিন মাসের মধ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিও জানান। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি সিটি প্রশাসক। পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আলোচনার পর সোমবার রাতে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে প্রায় ৩৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্ত করে দেন শিক্ষার্থীরা। তবে মুক্ত হওয়ার পরও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে রাখায় তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কলেজটিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং এ সময় ক্লাস-পরীক্ষাসহ কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষকরাও কলেজের বাইরে যেতে পারবেন না বলে জানান তারা।

তাদের দাবি, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে। এর আগে কলেজটিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি জানান তারা। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ বা রদবদলও মেনে নেওয়া হবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের সময় কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা ঝুলিয়ে রাখায় কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা এখনও কাটেনি।’

প্রসঙ্গত, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে পুরো কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবিতে গত রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে শিক্ষক-কর্মকর্তারা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে, কলেজটির পুরো কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া। তা সম্ভব না হলে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সংকট দূর করার দাবিও রয়েছে।

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। বর্তমানে তিনটি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে।


এই বিভাগের আরো খবর