বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

নদীভাঙন ঠেকাতে সিলেটে একের পর এক প্রকল্প, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক / ২৯ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নদীভাঙন ঠেকাতে সিলেটে একের পর এক প্রকল্প, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা কমাতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তীর প্রতিরক্ষা, নদী পুনঃখনন, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় কানিশাইলে নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।

তিনি বলেন, সুরমার পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন এবং রিজিংয়ের কাজও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষার কাজও নেওয়া হয়েছে।সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে বন্যার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেন।এ জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।তিনি আরও বলেন, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি যোগাযোগ, পর্যটন ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর