২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ের একদিন পর শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদান।এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে সরকারি ছুটির কারণে তা এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রথম ধাপে আবেদন শুরু হয় গত ২ সেপ্টেম্বর। ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। এ ধাপে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পান।
প্রথম ধাপে মনোনীত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কলেজগুলোর মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
এদিকে প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া, আবেদন না করা, মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চায়ন না করা কিংবা ভর্তি সম্পন্ন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ১ অক্টোবর রাত ৮টায়। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ হবে ৪ অক্টোবর রাত ৮টায়। এরপর ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আবেদন ফি দিতে হবে না। তারা অনলাইনে লগইন করে পছন্দক্রম পরিবর্তন অথবা নতুন কলেজ যুক্ত করতে পারবেন। এ ধাপে একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে হবে। সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে তাদের নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।আজ থেকে প্রথম ধাপে ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান শুরু হলেও দ্বিতীয় ধাপে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।