সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

বেনাপোল বন্দরে দীর্ঘ ছুটি

ডেস্ক / ১১ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
বেনাপোল বন্দরে দীর্ঘ ছুটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে টানা আট দিন বন্ধ থাকবে বাংলাদেশ-ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এ সময়ে শিল্পকারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের বন্দরে পণ্যজট ও যানজট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল পথে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন ভারতের ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

তবে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কলকাতা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার হওয়ায় আমদানিকারকদের কাছে এ পথটি বেশ জনপ্রিয়। প্রতিদিন ভারত থেকে সাড়ে ৩৫০ থেকে সাড়ে ৪৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায় প্রায় ১০০ ট্রাক পণ্য।

শিল্পকারখানার কাঁচামাল ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, এক দিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের বন্দরে পণ্যজট তৈরি হয়। সেখানে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে পণ্য ও যানবাহনের জট আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেন।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অন্যদিকে, যাত্রী যাতায়াত থেকে রাজস্ব আসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশেও ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি রয়েছে। দীর্ঘ ছুটি পেয়ে তাঁদের সংগঠনের সদস্যরা খুশি বলেও জানান তিনি।

কার্ত্তিক চক্রবর্তী আরও বলেন, পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ মাছ পাঠালে তা খালাসের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা তাঁদের জানিয়েছেন। তবে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে। বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকচালকেরা খালি ট্রাক নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমানও জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের যাত্রী চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। পূজার সময়ে যাত্রীর চাপ কিছুটা বাড়ে। এ কারণে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন ডেস্কে কর্মকর্তার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর