রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন

মারা গেছেন অভিনেত্রী নাসিমা খান

ডেস্ক / ৮ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
মারা গেছেন অভিনেত্রী নাসিমা খান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। বাংলা ও উর্দু- দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে পথ তৈরি করেছিলেন, তিনি তাদেরই একজন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু ভাষার অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।

নাসিমা খানের পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভিনেতা আনিসের, যিনি খান আতা নামেও পরিচিত। তখন ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা ছিলেন পরিচিত মুখ নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন অভিনেতা আনিস। নাসিমার বাবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার সম্মতি পাওয়ার পরই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা খান। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি আরও বাড়িয়ে তোলেন তিনি।নাসিমা খানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এসব সিনেমায় বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সাথে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন নাসিমা খান। বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তার কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িয়ে আছে তার নাম।উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করার পর নাসিমা খানকে নাটকেই বেশি দেখা গেছে। বয়স ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অটুট। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদেরই একজন। তার মৃত্যুতে ঢাকার চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।


এই বিভাগের আরো খবর