গ্রেফতারকৃত আব্দুল করিম দোয়ারাবাজার থানার কামারগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মশিহুর রহমান সোহেল।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে নুরুজ্জামানের সঙ্গে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার তারা বিয়ে করার জন্য সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কামারগাঁওয়ে বন্ধু আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে যেতে রওনা দেন।
সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারের আজমপুর খেয়াঘাটে একই গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুল করিমের সঙ্গে তাদের কথা হয়। আব্দুল করিম তাদেরকে আফাজ উদ্দিনের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন। রাতে জালালপুর গ্রামের ভেতরে গিয়ে অটোরিকশায় গ্যাস নেই জানিয়ে জালালপুরের লিয়াকত আলীর ছেলে মান্নারগাঁও ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আফছর উদ্দিনকে (৩৫) ডেকে আনেন। আফছর উদ্দিন ভুক্তভোগীদের চর দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, তোমাদের কাছে কোন কাবিননামা নেই। তোমরা একসঙ্গে কীভাবে থাকবে। তোমাদের পুলিশে দেওয়া হবে। রাত ১টায় ওই দুজনকে পরিত্যাক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে নুরুজ্জামানকে গাছের সঙ্গে বেঁধে আফছর উদ্দিন, ফয়জুল বারী (৪৫), কামারগাঁওয়ের ইদ্রিছ আলীর ছেলে আব্দুল করিম (৩৫) ও জালালপুরের হায়াত আলীর ছেলে ছয়ফুল ইসলাম (৩০) পালাক্রমে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের কাছে জানায় ওই কিশোরী।
দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে থানায় গণধর্ষণের মামলা নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠায়।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯ সুনামগঞ্জের একটি টিম মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ছাতক থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মোঃ আব্দুল করিম (৩২)কে গ্রেফতার করে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মশিহুর রহমান সোহেল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও, এই মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।