মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শেভরন বাংলাদেশের কনডেনসেট পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় পিতা-পুত্র গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের জৈন্তা ছড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনে অবৈধভাবে ট্যাপিং করলে কনডেনসেট তেল ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় হঠাৎ আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন বশির মিয়া (৫০) ও তার ছেলে রেদোয়ান (২৪)। প্রথমে তাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রেদোয়ানের অবস্থা সংকটাপন্ন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন ওই এলাকায় সিলেটের হরিপুর থেকে রশিদপুর হয়ে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস ও তেলের পাইপলাইন পাশাপাশি গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে এলাকাবাসী পাইপলাইন থেকে তেল লিক হতে দেখে স্থানীয় পাহারাদারদের খবর দেন। তারা দুটি পয়েন্ট থেকে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও ইতোমধ্যে প্রচুর তেল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার পরপরই আগুন লেগে যায়।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর সোলেমান আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা চারটি ইউনিট নিয়ে কাজ শুরু করি এবং এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গঠিত জরুরি সাড়া দলের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পেট্রোবাংলা ও শেভরনের বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং কীভাবে পাইপলাইন লিকেজ হলো ও আগুনের সূত্রপাত ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, তেল চোর চক্রের নাশকতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতীতেও এভাবে পাইপলাইন ট্যাপিংয়ের মাধ্যমে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।