রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৪৭ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক আকাশে গত চার দিন ধরে চলা রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান ঘটল এক সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের মতো। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যে ঝুলন্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, রাজভবনের মেপে মেপে চলা ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার সমাধান করেছেন অভিনেতা ও তমিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান বিজয়। রোববার (১০ মে) তিনি তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

২০১৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘বিগিল’-এ বিজয়কে দেখা গিয়েছিল একটি ভেঙে পড়া ফুটবল দল গোছাতে। কাকতালীয়ভাবে, এবারের বিধানসভায় সরকার গড়তে তার ঠিক ১১ জন সদস্যের সমর্থনই প্রয়োজন ছিল- যা একটি ফুটবল দলের খেলোয়াড় সংখ্যার সমান। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে বিজয়ের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। এর মধ্যে বিজয় নিজে দুই আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন ছাড়ার পর কার্যকর আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭-এ। অর্থাৎ বাকি ১১ জনের সমর্থন সংগ্রহ করাই ছিল তার আসল ‘পলিটিক্যাল বিগিল’।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায় ভরা। তামিলনাড়ুর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিরুবনন্তপুরমের বিমানে ওঠার কথা ছিল। গভর্নর যদি চেন্নাই ছেড়ে চলে যেতেন, তবে বিজয়ের ভাগ্য সোমবার পর্যন্ত ঝুলে থাকত।

সূত্র জানায়, ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে গভর্নরের টিকিট বুক করা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। এর ঠিক আগমুহূর্তে বিজয়ের হাতে এসে পৌঁছায় ডিএমকের সাবেক দুই মিত্র দল- ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র। এর ফলে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর পর এই দুই দলের সমর্থনে বিজয়ের জোটের শক্তি ১২০-এ পৌঁছে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে।

রাজ্যে নতুন নির্বাচন বা সাংবিধানিক সংকট এড়াতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিপক্কতা দেখিয়েছেন। ডিএমকে মুখপাত্র এ সারভানান জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে স্টালিন নিজেই তার মিত্রদের বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ডিএমকে কর্মীদের পরিশ্রমে জয়ী হয়েও কংগ্রেস যেভাবে রাতারাতি পক্ষ পরিবর্তন করেছে, তাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্টালিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার দল বিরোধী আসনে বসে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং গত পাঁচ বছরে তার সরকার যে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো শুরু করেছিল, সেগুলো সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে গভর্নর আরলেকারের সঙ্গে বিজয়ের চতুর্থ ও চূড়ান্ত বৈঠকটি যখন সফল হয়, তখনই রাজভবন থেকে সরকার গঠনের সবুজ সংকেত মেলে। সিনেমার পর্দার থালাপথি এখন বাস্তবের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।


এই বিভাগের আরো খবর