গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: ডিসি সারওয়ার আলম
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সমাজে গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরও দৃঢ় হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আয়োজনে “গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালত সক্রিয় থাকলে ছোটখাটো ও আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষকে উচ্চ আদালতে যেতে হয় না। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমে আসে। পাশাপাশি সামাজিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সফলতা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময়োপযোগী ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে জনগণ গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণে আরও আগ্রহী হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা গ্রাম আদালত ও আইন বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেলা প্রশাসনের তদারকি আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সূবর্না সরকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেশন অ্যানালিস্ট ড. শঙ্কর পাল। গ্রাম আদালত আইন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী। এ সময় জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রকিবুল হাসান, প্রকল্পের কমিউনিকেশন অ্যান্ড আউটরিচ অ্যানালিস্ট সুমন ফ্রান্সিস গোমেজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।