মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরে ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

ডেস্ক / ৬৮ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ফরিদপুরে ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন অধিকাংশ প্রার্থী।

জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই তাদের জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ, মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ (৬৭.৮৫%) আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পাননি।

জামানত হারানোদের তালিকায় ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচিত প্রার্থীরাও রয়েছেন। এর মধ্যে ‘১০ টাকা কেজি দরে ইলিশ’ বিক্রির ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা রায়হান জামিল এবং একজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন।

জামানত বাজেয়াপ্তের আইনি বিধান

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এর কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

আসনভিত্তিক চিত্র

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী):
৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত মো. ইলিয়াস মোল্লা।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা):
৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ফরিদপুর-৩ (সদর):
৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। জয়ী হয়েছেন বিএনপির নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন):
৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন। তবে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।

আলোচিত প্রার্থীদের ভরাডুবি

ফরিদপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘১০ টাকা কেজি দরে ইলিশ’ বিক্রির ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রায়হান জামিল মাত্র ৫৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া ফরিদপুর-৩ আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী আরিফা আক্তার বেবি পেয়েছেন মাত্র ২৫১ ভোট, তিনিও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, আরপিও অনুযায়ী নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারা প্রার্থীদের জামানতের অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা হবে।


এই বিভাগের আরো খবর