শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক / ৪৫ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মৃত্যুকূপ থেকে রূপকথার মতো ফিরে ২-১ ব্যবধানে জিতে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল লিওনেল স্কালোনির দল। বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ—সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তারা। এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ (নিউজার্সি) স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ইউরোপিয়ান জায়েন্ট স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই মাঠের বাইরে দুই দলের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বৈরিতা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার পর ফুটবলারদের শরীরী ভাষাতেও তা স্পষ্ট ফুটে ওঠে। শুরু থেকেই ফাউলের পর ফাউল করে খেলতে থাকে দুই দল। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চ চারটি ফাউল করে বসে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইডেনের করা রেকর্ডের সমান। ম্যাচের প্রথম ১৯ মিনিটে কার্যকর কোনো আক্রমণ করতে পারেনি কোনো দলই। ২০ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের পাসে বল পেয়ে রিস জেমস চমৎকার ক্রস করলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সহজেই তা ওপরে লাফিয়ে লুফে নেন। ২৪ মিনিটে মেসির কর্নার কিক থেকে সুবিধা করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে জার্সি টেনে ধরার অপরাধে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ফলে প্রথমার্ধে দুই দলের কোনো শট অন-টার্গেটে না থাকায় গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় খেলা।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো একটি লং বল ক্লিয়ার করতে ভুল করলে বল পেয়ে যান রজার্স। তাঁর দারুণ ক্রসে গোলমুখের সামনে থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামানো হয় নিকো গঞ্জালেসকে। ৬৭ মিনিটে তাঁর হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেভ করেন পিকফোর্ড। এরপর ৭৫ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেট গতির হেডও ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন এই ইংলিশ গোলকিপার। একের পর এক সেভ করে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পিকফোর্ড।

অবশেষে ৮৪ মিনিটে এনজোর দূরপাল্লার শট পিকফোর্ড কর্নার করলেও, পরের মিনিটেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৮৫ মিনিটে ছোট কর্নার থেকে বক্সের বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাস থেকে এবার চোখ ধাঁধানো দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়ান এনজো। ১-১ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে লিওনেল মেসি টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়েন, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো ফুটবলারের জন্য দীর্ঘতম।

মেসি এখানেই থামেননি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) আবারও জাদু দেখান এই মহাতারকা। প্রথমে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে বল ধরে ডান প্রান্ত থেকে চমৎকার এক ক্রস বাড়ান মেসি। সেখানে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বদলি নামা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইংলিশ ফুটবলাররা। অন্যদিকে বাধনহারা উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা দল ও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি সমর্থক। এই নিয়ে টানা ৮ ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকে ফাইনালে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী ১৯ জুলাই মেগা ফাইনালে ফুটবল বিশ্ব উপভোগ করবে এক নতুন দ্বৈরথ—স্পেন বনার আর্জেন্টিনা।


এই বিভাগের আরো খবর