ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ২০
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কলেজ রোড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ উভয়পক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কলেজে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয়পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। চলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ করেন, আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে আমরা প্রতিবাদ জানাই। এর পরপরই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ছাত্রদলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজু দাবি করেন, আলোচনা সভায় যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন ছাত্রদল হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। পরে শিক্ষকদের পরামর্শে তারা কলেজ ত্যাগ করেন। কিন্তু চাষাঢ়া এলাকায় পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে কলেজ রোড এলাকায় আবারও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ছাত্রশিবিরের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।