সিলেট নগরীতে একটি বড় পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান:বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শুরুতে অনেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও সংস্থাটি কাজ শুরু করলে এর সুফল সবাই দেখতে পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ও প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সংস্থাটি এত ভয়াবহ কিছু নয়। কাজ শুরু করলে হয়তো সবাই পছন্দ করবে। কারণ তারা যে নকশাগুলো অনুমোদন করবেন, সেগুলো একটি ডিউ প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, এখানে আরও স্বচ্ছতা আসবে।’তিনি বলেন, সিলেটে বর্তমানে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। শীত মৌসুম থেকে এসব প্রকল্পের সুফল দৃশ্যমান হতে শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সিলেট বিভাগের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। তিনি বলেন, ‘এটি হলে সিলেট বিভাগের, শুধু সিলেট জেলার নয়, গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নে একটি বিরাট অগ্রগতি হবে।’জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। শীত মৌসুম থেকেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সিলেট শহরের প্রাকৃতিক খালগুলো অনেক জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। পুরোনো কারাগারের জায়গায় বড় পার্কের পরিকল্পনা সিলেট নগরীতে একটি বড় পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পুরোনো কারাগারের জায়গাটিকে একটি বিশাল পার্কে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ ও বায়ুর মানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরি হবে এবং পার্কটি পর্যটকদের জন্যও একটি বড় আকর্ষণে পরিণত হতে পারে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।