শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

এই প্রথম বাংলাদেশি কর্মী নেবে থাইল্যান্ড, প্রক্রিয়া শুরু কবে?

ডেস্ক / ১৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
এই প্রথম বাংলাদেশি কর্মী নেবে থাইল্যান্ড, প্রক্রিয়া শুরু কবে?

থাইল্যান্ডের কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানা গেলেও বাংলাদেশিদের নিয়োগ শুরুর সময়, কর্মীর সংখ্যা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় দেশটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের বৈধ পথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন শ্রমবাজারের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের চুক্তি বা চূড়ান্ত নিয়োগসূচি প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরির খবরকে সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, কর্মীর সংখ্যা, যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং পারিশ্রমিকের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে। কর্মীদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থান চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি কাজের অনুমতিপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণের মতো শর্তও পূরণ করতে হবে।

চুক্তিতে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। বিদেশি কর্মীরা যেন স্থানীয় কর্মীদের মতো ন্যায্য আচরণ ও শ্রম আইনের আওতায় প্রাপ্য সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরির শর্ত নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। শ্রীলঙ্কার কর্মীদের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে। মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার ওপর থাকবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য শুধু বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং বৈধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ, কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানব পাচারের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী সুযোগ তৈরি হতে পারে?

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন ধরনের কাজে লোক নেওয়া হবে, কী যোগ্যতা লাগবে, বেতন কত হবে এবং নিয়োগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা অভিজ্ঞতার শর্ত থাকবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

একইভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় কতজন কর্মী যাবেন, নিয়োগের আবেদন কখন শুরু হবে কিংবা কোন সরকারি সংস্থা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার কর্মী নিয়োগের সময়সূচি বা চুক্তির শর্ত সরাসরি বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তবেই এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কতা

থাইল্যান্ডে কাজের সুযোগের খবর সামনে আসায় আগ্রহী কর্মীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে সরকারি ঘোষণা, অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থা এবং নির্দিষ্ট চাকরির তথ্য প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসার প্রতিশ্রুতি কিংবা আগাম টাকা চাওয়া কোনো প্রস্তাব যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগকর্তার পরিচয়, লিখিত চুক্তি, বেতন, কাজের ধরন এবং কাজের অনুমতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নিয়োগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগ্রহী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


এই বিভাগের আরো খবর