শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

নাশতা কম নেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

ডেস্ক / ৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
নাশতা কম নেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

শ্বশুরবাড়িতে নাশতা কম নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর সিফাত (২২)। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভের যমজ সন্তানও মারা যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬০) শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে সিফাতের মরদেহ চন্দনাইশ পৌরসভার নয়াপাড়া এলাকায় তাঁর বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

নিহত সিফাত চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াস খাঁ বাড়ির বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে চলে গেলে তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন।

সিফাতের মা জুহিনুর আক্তারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে যান তিনি। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে বলে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতের চুলের মুঠি ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন বলে দাবি পরিবারের।

জুহিনুর আক্তারের ভাষ্য, ঘটনার পর সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল এবং কথিত মারধরের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পরিবারের দাবি, সিফাত তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভের যমজ সন্তান মৃত অবস্থায় প্রসব করানো হয়। এরপরও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান।

সিফাতের বাবা মোহাম্মদ নূর অভিযোগ করেন, মেয়েকে মারধরের ঘটনার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। শনিবার তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগে তাঁর মায়ের কাছ থেকে আগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাতের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নিহতের বাবা মোহাম্মদ নূর জানান, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শনিবার রাতে পটিয়া থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।


এই বিভাগের আরো খবর