শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৭ সালের বসন্তে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। নিয়মটি কার্যকর হলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীরা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করতে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে চারটি ব্যবস্থা সামনে এনেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক মূল্যায়নে অফকম জানায়, ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি কি না, তা যাচাইয়ে চারটি পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এগুলো হলো ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র যাচাই, ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান। সংস্থাটির মতে, এসব পদ্ধতি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়সসীমা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমবে।

প্রথম পদ্ধতিতে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ছবি সংবলিত পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রে থাকা ছবির সঙ্গে ব্যবহারকারীর সরাসরি তোলা ছবির মিল পরীক্ষা করা হতে পারে। অফকমের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ৯৪ শতাংশের পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ তরুণের কাছে এ দুটির কোনোটিই নেই।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর সম্মতি নিয়ে ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত তথ্যের মাধ্যমে বয়স যাচাই করা হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। তাই ব্যাংকের কাছে থাকা তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে বয়স নিশ্চিত করা সম্ভব। অফকমের তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যের ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ৯০ শতাংশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।তৃতীয় পদ্ধতি হলো ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী একবার নিজের পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত করলে পরবর্তী সময়ে বারবার পাসপোর্ট বা অন্য কোনো নথি দেখানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। বিভিন্ন অনলাইন সেবায় এ ধরনের ডিজিটাল পরিচয় যাচাইব্যবস্থা ব্যবহার করা সম্ভব।

চতুর্থ পদ্ধতিতে মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য বয়স নির্ধারণ করা হবে। এ প্রযুক্তি মুখের গঠন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করে। তবে ১৬ বছরের কাছাকাছি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিতে কয়েক বছরের ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন, ১৬ বছর বয়সী কাউকে ১৪ বা ১৮ বছর বয়সী হিসেবে শনাক্ত করতে পারে প্রযুক্তিটি।এ ধরনের ভুল কমাতে ‘চ্যালেঞ্জ এজ’ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে অফকম। অর্থাৎ, মুখের ছবি বিশ্লেষণে কারও বয়স ১৬ বছরের কাছাকাছি মনে হলে তাঁর পরিচয় দ্বিতীয়বার যাচাই করা হতে পারে। দোকানে মদ কেনার সময় কোনো ক্রেতাকে ২৫ বছরের কম বয়সী মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে এ পদ্ধতির মিল রয়েছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে যে নতুন করে বয়স প্রমাণ করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে ব্যবহারকারীর বয়স সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা যাচাইয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ককেও বয়স নিশ্চিত করতে বলা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আগে থেকেই ব্যবহৃত অন্যান্য যাচাইপদ্ধতি কাজে লাগানো যাবে।

অফকম জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের নথি এবং ইমেইলভিত্তিক বয়স অনুমানের পদ্ধতি ১৮ বছরের বেশি বয়স নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে। তবে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স নির্ধারণের জন্য এগুলো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। একইভাবে, ব্যবহারকারী নিজে বয়স লিখে দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো বয়সসীমা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেই শুধু স্বঘোষিত বয়সকে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করছে না সংস্থাটি।


এই বিভাগের আরো খবর