শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

আগামীকাল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ডেস্ক রিপোর্ট / ২২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীকাল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

দেশের গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিতাসের আরও তিনটি এবং বাখরাবাদের একটি কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। তিতাস-২৮-এর গ্যাস যুক্ত হলে পাঁচটি কূপ মিলিয়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি উদ্বোধনের পরপরই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কূপটি উৎপাদনে এলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। কূপটির গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

তিতাস-২৯ নম্বর কূপের প্রধান খননকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিং ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ কূপ থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কূপ থেকেও দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপটি গভীর অনুসন্ধানমূলক কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল তিতাস-৩১-এর খননকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কূপটির গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার।

গভীরতা বেশি হওয়ায় এ কূপের খনন ও পরবর্তী কাজ শেষ করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। সফলভাবে কূপটি সম্পন্ন হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কূপের লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এখানে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কূপটির মাধ্যমে আরও প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুতের সন্ধান মিলতে পারে। তবে এই হিসাব এখনো নিশ্চিত নয়। খননকাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে নতুন মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সবকটি কূপ পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হলে দেশীয় উৎস থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এর ফলে আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


এই বিভাগের আরো খবর