প্রায় দুই দশক ধরে একে অপরের সঙ্গে তুলনায় থাকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তেও এসে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছেন। তবে দুজনের শেষ অধ্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেসি, অন্যদিকে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।আগামী মঙ্গলবার বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলবেন মেসি। প্রতিপক্ষের চেয়ে ম্যাচটির উপলক্ষই এখন বেশি আলোচনায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকার বিদায়ী ম্যাচটি কার্যত পরিণত হতে যাচ্ছে সম্মান জানানোর এক আয়োজনে।
রোনালদোর পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে থাকার পর পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন তিনি। কোচ জর্জ জেসুস কেন তাকে মাঠে নামাননি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যার পরই ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।ইনস্টাগ্রামে রোনালদো লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত না জানিয়ে রোনালদো আরও বলেন, ‘সঠিক সময়ে পর্তুগালের মানুষকে এর পেছনের সত্যটা জানাব।’রোনালদো এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি। তবে দ্য অ্যাথলেটিকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পর্তুগালের সঙ্গে তার দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি খুব বেশি দূরে নয় বলেই বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে জেসুস জানিয়েছিলেন, রোনালদোর সঙ্গে তার আগেই কথা হয়েছিল। ম্যাচের শেষ দিকে তাকে প্রয়োজন হতে পারে—এমন পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।
জেসুস বলেন, ‘ম্যাচই আমাকে বলে দেয় কী করতে হবে। আমরা ভেবেছিলাম শেষ দিকে হয়তো তাকে দরকার হবে। কিন্তু ম্যাচ ভিন্ন কিছু বলেছে, তাই শেষ পর্যন্ত তাকে নামাইনি।’সাম্প্রতিক সময়ে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও ভিন্ন পথে এগিয়েছে। মেসি সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন। ২০২২ সালে দলকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকাও জিতেছে।
রোনালদোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত জায়গা ধরে রাখা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। রবার্তো মার্তিনেজ এবং তার আগে ফার্নান্দো সান্তোসের অধীনে তিনি নিয়মিত খেললেও জেসুস দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নিশ্চয়তা আর থাকছে না।
দ্য অ্যাথলেটিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখানেই দুই তারকার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের বড় পার্থক্য। লিওনেল স্কালোনি মেসির বয়স ও বর্তমান সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে তার চারপাশে দল সাজাতে পেরেছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের ক্ষেত্রে রোনালদোকে কেন্দ্র করে একই ধরনের ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রোনালদোর পর্তুগাল অধ্যায় যে এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেটিও এখনই নিশ্চিত নয়। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার জন্য আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।মেসির ক্ষেত্রে বিদায়ের দিন নির্ধারিত হয়ে গেছে। রোনালদোর ক্ষেত্রে এখন অপেক্ষা পরবর্তী সিদ্ধান্তের।