নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মুনাফা ও পণ্য সরবরাহে কারসাজি ঠেকাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চাল, তেল, ডিম, শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে বাজারভেদে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গত কয়েক মাসে ডিম, সবজি ও মাছের দাম বাড়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
এদিকে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির জানিয়েছেন, যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর দাবি থাকলেও সরকার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বা চক্র যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট টিমগুলো বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনিয়ম, মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা বা ভোক্তা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুধু অভিযান নয়—পণ্যের সরবরাহ, আমদানি, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের মূল্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনার পুরো সরবরাহ চেইন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ সরবরাহে সমস্যা হলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যাহত হয়ে দামেও প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাজার পরিস্থিতি আরও সহনীয় হবে।