সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

৫ মাসে ৪ বার ধর্ষণের শিকার ভারতীয় নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট / ৪২৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
৫ মাসে ৪ বার ধর্ষণের শিকার ভারতীয় নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাতারা জেলায় আত্মহত্যা করা নারী চিকিৎসক একটি চার পাতার সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, যেখানে তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাতে ধর্ষণের অভিযোগই নয়, বরং একজন সাংসদ ও তার দুই সহযোগীর চাপের কথাও উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তাকে জোর করে মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তা অস্বীকার করায় নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা

২৬ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক সাতারার ফলতন উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজের হাতের তালুতে লিখেছিলেন—তাকে চারবার ধর্ষণ করেছেন উপপরিদর্শক (সাব–ইন্সপেক্টর) গোপাল বাদনে, এবং গত পাঁচ মাস ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন।

প্রায় ২৩ মাস ধরে ওই হাসপাতালে চাকরি করছিলেন তিনি। মাত্র এক মাস পরই শেষ হতো তার বাধ্যতামূলক গ্রামীণ সেবাকাল, এরপর তিনি স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করতে চেয়েছিলেন।

চিঠিতে উন্মোচিত ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির হাতে পাওয়া চার পাতার আত্মহত্যার চিঠিতে ওই চিকিৎসক লিখেছেন, থানার কর্মকর্তারা তাকে বারবার বিনা পরীক্ষায় আসামিদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে চাপ দিতেন। যখন তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন বাদনে ও অন্যান্যরা তাকে হয়রানি শুরু করেন।

এক ঘটনায় তিনি সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক সাংসদের দুই ব্যক্তিগত সহকারী হাসপাতালে হাজির হন। তারা ফোনে ওই সাংসদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন, এবং সাংসদ পরোক্ষভাবে তাকে হুমকি দেন।

ডাক্তারের এক চাচাতো ভাইও একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, “তিনি দুই–তিনবার লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ–পুলিশ সুপার (ডিএসপি)-এর কাছেও চিঠি পাঠান, কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন—যদি তার কিছু ঘটে, তবে দায়ী কে হবে? নিরাপত্তার অভাবের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ডিএসপিকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।”

বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

চিঠিতে চিকিৎসক তার বাড়িওয়ালা প্রশান্ত ব্যাংকারের বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বাদনে ও ব্যাংকার—উভয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলহাপুর রেঞ্জের পুলিশের মহাপরিদর্শক সুনীল ফুলারি।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে সাতারা জেলায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক তোলপাড়

ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার পুলিশকে রক্ষা করছে।

কংগ্রেস নেতা বিজয় নামদেওরাও ওয়াদেত্তিওয়ার এক্স (আগে টুইটার)-এ লিখেছেন, “যখন রক্ষকই হয়ে ওঠে শিকারি! পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে রক্ষা করা, কিন্তু যদি তারাই এক নারী চিকিৎসককে শোষণ করে, তবে ন্যায়বিচার কীভাবে আসবে? এই মেয়ে আগেও অভিযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে বিজেপি জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সাতারার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। জানা গেছে, ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আমি সকল নারীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—এভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। সরকার সহায়তা করতে প্রস্তুত। জরুরি প্রয়োজনে ১১২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এই বিভাগের আরো খবর