সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, অতঃপর…

মোঃ পাবেল আহমদ / ৪২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, অতঃপর...

সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযান চালিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ ঘটনায় বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইকবাল হোসেন সোহান কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। তার সাথে থাকা আরও দুজনকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। উত্তরপত্রগুলো একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল।

খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হয়।জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের উপস্থিতিতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যেহেতু উত্তরপত্রগুলো শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, তাই প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা বোর্ড।

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, জনবহুল স্থানে বসে একজন শিক্ষক এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন বলে খবর পাওয়ার পরপরই বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে উত্তরপত্রগুলো বোর্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি নথিভুক্ত করতে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত বিধি ও নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরো খবর