সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু

ডেস্ক / ১৮ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু

দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বদলি ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই পদে বদলির সুযোগ পাবেন।

এ জন্য সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬’ জারি করেছে। নীতিমালাটি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ, যাচাই ও বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রতি বছর সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর পুনরায় আবেদন করতে হলেও সেখানে কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে নিজ জেলার শূন্য পদ। নিজ জেলায় সুযোগ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করা যাবে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলা কিংবা দেশের অন্য জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একটি পদের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে করা আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক একসঙ্গে বদলি হতে পারবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।পুরো বদলি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের অধীনে এবং এটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। বদলির পর শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বহাল থাকবে।

তবে নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বদলি কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে গণ্য হবে না। বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা দেওয়া হবে না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ রয়েছে বা ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, তারা বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না।

মাউশির একজন কর্মকর্তা জানান, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পেতে পারেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকা ও শর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, বদলি কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টেলিটকের সফটওয়্যার চালু হলেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এক শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।


এই বিভাগের আরো খবর