রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

আসামে কোরবানিতে গরু জবাই করলেই কঠোর শাস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২২ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
আসামে কোরবানিতে গরু জবাই করলেই কঠোর শাস্তি

পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন ঈদ কমিটি। তদের মতে, ‘গরু জবাই’ রাজ্যের গবাদি পশু সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থি। ফলে আইন অমান্য করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

শনিবার (২৩ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। মূলত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহ্বানের পর ঈদ কমিটিগুলো এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছে।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের স্বার্থের কথা উল্লেখ করে এ আহ্বান জানিয়েছে ঈদ কমিটিগুলো।

বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী কিছু নিয়ম বলবৎ করেছে রাজ্যে। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। ১৪ বছর বয়স হয়নি এমন গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না। মাংস কাটার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন।

নিয়ম অনুযায়ী- গরু, মহিষ কিংবা বাছুর জবাই করার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। শর্ত অনুযায়ী, পশুটির বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। এ ছাড়া পশুটি যদি বার্ধক্য, চোট কিংবা কোনো দুরারোগ্য রোগের কারণে কাজের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তবে পশুটি জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হবে। স্থানীয় পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে এই অনুমতি দেবেন।

আইন অমান্যকারীদের জন্যও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে নতুন নিয়মে। এতে বলা হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল হতে পারে। এর পাশাপাশি এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা বা জেল-জরিমানা দুই-ই হতে পারে। এই ধরনের অপরাধকে জামিন অযোগ্য বা আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

আসামের ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটি বিবৃতিতে জানায়, ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে পালন করতে হবে। মুসলিম অধ্যুষিত ধুবড়ি জেলায় সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে পশু কোরবানি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসাম গবাদি পশু সংরক্ষণ আইনের আওতায় গরু জবাই নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া শুধু নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরবানির ছবি বা দৃশ্য প্রচার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ এতে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির সভাপতিবলেন, আমরা ঈদে গরু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুসলিম ভাইদেরও একই আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের ধর্মের মূল শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পশু কোরবানি নয়, বরং অন্তরের হিংসা ও বিদ্বেষ ত্যাগ করা। আমাদের ধর্মীয় আচারের কারণে অন্য কোনো ধর্মের মানুষ যেন কষ্ট না পান, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের আইন মেনে চলার স্বার্থে গরু কোরবানি না করার আহ্বান জানিয়েছে। রাজ্যের সব ঈদ কমিটির প্রতি একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, হোজাই, ধুবুড়ি, বঙ্গাইগাঁও, উদারবন্দ সহ আসামের বিভিন্ন এলাকার ইদগাহ কমিটি ইদের সময় গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এর পেছনের আইনি ও ধর্মীয় কারণও ব্যাখ্যা করেছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শাটল ট্রেন বিস্ফোরণে নিহত ২৪
হোজাই টাউন ঈদগাহ কমিটিও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ঈদুল আজহার সময় ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছে ঈদ কমিটি।


এই বিভাগের আরো খবর