শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

জয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ডেস্ক / ৬৩ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

জয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ফ্রি-কিক থেকে জোরাল হেডে গোল করেই বাঁধানহারা উল্লাসে মেতে উঠলেন তমাস সৌচেক। চেকিয়ার তারকা মিডফিল্ডার ছুটে গেলেন কর্নার স্ট্যান্ডের দিকে। কিন্তু সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকা সহকারি রেফারি তখন পতাকা উঁচিয়ে ধরে আছেন। অফ সাইড! সেটির রেশ থাকতে থাকতেই পুরো উল্টো গেল ছবি। অন্য প্রান্তে দারুণ এক দলীয় গোলে এগিয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ব্যবধান।

২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তেজনায় ঠাসা দ্বিতীয়ার্ধে বল জালে ঢুকল চারবার। গোল হলো তিনটি। গতিময় ফুটবলের প্রদর্শনীতে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ব আসরে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

মেক্সিকোর গুয়াদালহারার সাপোপানে খেলার ধারার অনেকটা বিপরীতে গোল করে চেকিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লাজিস্লাভ ক্রেইচি। কিন্তু মোহনীয় এক গোলে এশিয়া টাইগারদের সমতায় ফেরান হং ইন-বম। পরে তার পাস থেকেই গোল করেন ওহ হিউন-গিউ। সেটিই হয়ে থাকে জয়সূচক গোল।

২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারল দক্ষিণ কোরিয়া।
কোরিয়ানদের বড় ভরসা, দেশের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের জন্য যার প্রয়োজন আর মোটে দুটি গোল, সেই সন হিউং-মিন একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। এক পর্যায়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হয়নি দলকে।

শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কোরিয়া। প্রতিপক্ষ ব্যস্ত ছিল মূলত আক্রমণ ঠেকাতেই। হিউং-মিনের শট আটকে যায় চেকিয়ার রক্ষণ দেয়ালে। লি হ্যান-বমের হেড উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। পিএসজির উইঙ্গার লি গাং-ইনের বাঁ পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন চেকিয়ার গোলকিপার মাতেই কোভার। মিনিট তিনেকের মধ্যেই হয়ে যায় এত কিছু।

চেকিয়া প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ২২তম মিনিটে। কাছ থেকেও গোল করতে পারেননি সৌচেক। পরে দুই দফায় সুযোগ হাতছাড়া করেন তারকা ফরোয়ার্ড পাত্রিক শিক। ৩৮ ও ৩৯ততম মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন হিউং-মিন। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল না হওয়ার হতাশাতেই।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই চেকিয়াকে আরও চেপে ধরে দক্ষিণ কোরিয়া।

ইন-বমের ডান পায়ের শট আর ই জে-সংয়ের বাঁ পায়ের শট আটকে দেন চেকিয়ার গোলকিপার কোভার।

দক্ষিণ কোরিয়া সেরা সুযোগটি পায় ৫৬তম মিনিটে। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ান চেকিয়ার গোলকিপার। জে-সংয়েরে থ্রু বল ধরে বাঁ দিক থেকে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন হিউং-মিন। গোলকিপারকে একা পেয়ে যান তিনি। কিন্তু কোভার এগিয়ে এসে শরীর দিয়ে দেয়াল গড়ে দারুণভাবে বিপদমুক্ত করেন দলকে।

স্রোতের বিপরীতে ৫৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেকিয়া। ভ্লাদিমির চৌফালের জোরাল লম্বা থ্রোয়ে অনেকটা লাফিয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান সেন্টার-ব্যাক ও অধিনায়ক ক্রেইচি।

সেই ধাক্কায় খেই হারায়নি কোরিয়া। আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেয় তারা। ৬৭তম মিনিটে গাং-ইনের থ্রু বল বক্সের ভেতর ধরে এক ডিফেন্ডারকে চমৎকারভাবে কাটিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে মৃদু চিপ করেন ইন-বম। আলতো সেই বল একটু একটু করে গড়িয়ে চলে যায় জালে। ডিফেন্ডার ক্রেইচি ছুটে গিয়েও নাগাল পাননি বলের।

এরপর ৭৭তম মিনিটে সৌচেকের সেই অফসাইড। ৮০তম মিনিটে ইন-বমের পাস থেকে হিউন-গিউর পা বাঁয়ের শট চেকিয়ার গোলকিপারে হাতে লেগেও ঢুকে যায় জালে।

মরিয়া চেকিয়া শেষ দিকে বেশ কিছু আক্রমণ করে। দুই দফায় গোলের কাছাকাছিও যায় তারা। কিন্তু দুবারই দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোরিয়ার গোলকিপার কিম সুং-গিউ।

ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রাখে কোরিয়া। গোলে শট নেয় ১৫টি, এরপর ৭টি থাকে লক্ষ্যে। জয়ের ব্যবধানে সেই দাপটের প্রতিফলন না পড়লেও তিন পয়েন্টের উচ্ছ্বাসে মাঠ ছাড়ে তারা। ম্যাচের পর তাদের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, এই জয় কতটা মূল্যবান তাদের কাছে।


এই বিভাগের আরো খবর