মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে প্রতিদিন দেখা হয় ২ কোটি ১১ লাখ মিনিট ভিডিও, যা ৪০ বছরের সমান!

ডেস্ক / ৩৮ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে প্রতিদিন দেখা হয় ২ কোটি ১১ লাখ মিনিট ভিডিও, যা ৪০ বছরের সমান!

বাংলাদেশে ভিডিও কনটেন্ট ব্যবহারের পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা, অর্থাৎ ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার মিনিট ভিডিও কনটেন্ট ব্যবহার করেন গ্রাহকেরা। একদিনে দেখা এই বিপুল পরিমাণ ভিডিও একটানা দেখতে গেলে সময় লাগবে প্রায় ৪০ বছর।

এই পরিমাণ ভিডিও ডেটা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা স্ট্রিম করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে সিনেমা দেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলস, বারবার দেখা মিউজিক ভিডিও, অনলাইন ক্লাস, লাইভ খেলা এবং চলার পথে দেখা বিভিন্ন সিরিজের পর্ব।

ফলে ভিডিও এখন বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনন্দিন ডিজিটাল অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন ভিডিও ব্যবহারের প্রত্যাশাও। ভিডিও চালু করার সময় গ্রাহকের প্রত্যাশা থাকে, ‘প্লে’ চাপার সঙ্গে সঙ্গেই যেন কনটেন্ট চলতে শুরু করে।

এ ধরনের ভিডিও অভিজ্ঞতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও অবকাঠামো। গ্রামীণফোনের ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৬০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামকে ৬০ লেনের একটি ডিজিটাল মহাসড়কের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ব্যস্ত সময়ে প্রশস্ত সড়ক যেমন একসঙ্গে বেশি যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেয়, তেমনি বেশি স্পেকট্রাম ক্যাপাসিটি একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ডেটা পরিবহনে সক্ষমতা বাড়ায়।

এর পাশাপাশি গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ২০০ Mbps পর্যন্ত 5G speed রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান ‘video-first’ ডিজিটাল জীবনযাত্রার জন্য অতিরিক্ত সক্ষমতা দিতে পারে।

ভিডিও দ্রুত চালু হওয়ার ক্ষেত্রে কনটেন্টের কাছাকাছি থাকা বা proximity-ও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোনের বিস্তৃত local cache ecosystem-এর মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত কনটেন্ট গ্রাহকের কাছাকাছি রাখা হয়। ফলে প্রতিবার দূরবর্তী সার্ভার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কনটেন্ট আসার প্রয়োজন কমে।

এই ব্যবস্থায় একটি ভিডিওর first byte ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেও লোড হতে পারে। ফলে লাইভ স্ট্রিম শুরু করা, ভিডিওতে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিংবা পরবর্তী পর্ব চালু করার মতো কাজেও দ্রুত সাড়া পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, এসব সেবার পেছনে রয়েছে তাদের nationwide 4G infrastructure। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৪ হাজারেরও বেশি network site রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি জনসংখ্যার কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে।

শহরের ব্যস্ত এলাকা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল—বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এই নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজ করছে।

গ্রাহকের কাছে এর প্রযুক্তিগত জটিলতা অবশ্য দৃশ্যমান নয়। কোনো ভিডিও দ্রুত চালু হওয়া, লাইভ ম্যাচ interruption ছাড়াই দেখা কিংবা কোনো সিরিজের পর্ব buffering ছাড়াই চলতে থাকাই তাদের কাছে মূল বিষয়।

শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতাটি খুবই সহজ—প্লে চাপতে হবে, আর ভিডিও চলবে।


এই বিভাগের আরো খবর