আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর যাবত চলমান গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের জন্য রসদ হিসেবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সম্প্রতি ফরাসি রেডিও ইন্টারে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, এই মুহূর্তে তিনি মনে করছেন ফিলিস্তিন নিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে যাওয়াটাও অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে পশ্চিমারা গাজা যুদ্ধের জন্য অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, গাজা যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলকে কোনো প্রকার অস্ত্র দিচ্ছে না ফ্রান্স। যদিও ফ্রান্স ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় নেই। তবে জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের এমন মন্তব্য বেশ গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছিল তারা ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকার কারণে এসব অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় ধ্বংসাত্মক আক্রমণের বিষয়ে মাখোঁ আবারও তার উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কঠোর হতে পারছে না, এটা একটা বড় ভুল। এমনকি এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যও বিপদজনক বলে মন্তব্য করেন মাখোঁ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এই সংঘাত জাতিগত ঘৃণার দিকে এগিয়ে গেছে। এ সময় লেবাননে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্তের জন্য নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন মাখোঁ। তিনি জানান, এই মুহূর্তে সংঘাত কমিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। লেবানন আরেকটি গাজা হয়ে উঠতে পারে না, এমনকি লেবাননের জনগণ তাদের প্রাণ হারাতে পারেন না।
মাখোঁর এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান নেতানিয়াহু। বলেন, যখন সারাবিশ্ব ইরানি বর্বরতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এই সময়ে এসেও মাখোঁসহ বেশ ক’জন পশ্চিমা নেতা ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের প্রতি ধিক্কার।