বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক / ৬৮ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখল আর্জেন্টিনা। নাটকীয় ম্যাচে মিশরকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ ভাগে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল করে শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে অবিস্মরণীয় এক জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার বাড়ানো ক্রসে মিশরের ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম দুর্দান্ত হেডে বল জালের ডানদিকের নিচের কোণে পাঠান। এর ৫ মিনিট পর গোল শোধের সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতর তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ২১ মিনিটে মেসির নেওয়া বাম পায়ের শটটি দারুণ দক্ষতায় বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি, যা চলতি আসরে তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

​আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা একের পর এক দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড এবং প্রথমার্ধের শেষ দিকে আলভারেজের শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন তিনি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করে মিশর।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক খেললেও মিশরের রক্ষণভাগ ৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে জমাট বেঁধে থাকে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। এক বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাক থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান মিশরের জিকো। এর ঠিক আগেই জিকোর আরেকটি দুর্দান্ত গোল ফাউলের কারণে বাতিল করেছিল ভিএআর (VAR)।

​২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে যখন আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই হাইড্রেশন ব্রেকের পর শুরু হয় আলবিসেলেস্তেদের অবিশ্বাস্য ঝড়। ৭৯ মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির নিখুঁত ক্রসে চমৎকার হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি।​ঠিক ৫ মিনিট পর, ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এবার খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসি জোরালো শটে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বল বারের নিচের অংশ দিয়ে জালে জড়ায়। এই আসরে এটি মেসির অষ্টম গোল এবং এর মাধ্যমে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন এলএমটেন।

​মিশর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৯১ মিনিটে আসে জয়সূচক সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। এক দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৩ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। যদিও গোলটির বিল্ডআপের সময় মিশর পেনাল্টির দাবি তুলে টাচলাইনে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাই।


এই বিভাগের আরো খবর