দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান।আক্রান্ত ব্যক্তি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে এনজিওগ্রাম করার সময় অ্যান্টিজেন টেস্টে (আরএটি) তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে তাকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে একটি কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ জুন দুই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১৪ মাস পর নতুন করে একজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হলো।এদিকে, কয়েকদিন ধরে সিলেটে হাম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর সিলেটে ৮০৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২২ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত সেখানে ১৩৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই হাসপাতালে নতুন করে কোভিড রোগী ভর্তি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, একই হাসপাতালে একাধিক সংক্রামক রোগের রোগীদের একসঙ্গে রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, শনিবার ডেঙ্গু নিয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেটে ১২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ রোগে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নিয়মিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।