সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৭ জনে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আট মাস বয়সী শিশু নিহান। তার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো রোগীর শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়নি। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮৮ জনই রয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪০ জন।
নতুন ভর্তি হওয়া ১৩১ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন রয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৪৭ সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫০ জন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০১ জন। এ ছাড়া রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৮, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৭, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৮৮ জনের। এর মধ্যে সিলেটে ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ।এদিকে, চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৪০ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। বাকি ১৩০ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়েজেলাভিত্তিক হিসাবে এখন পর্যন্ত সিলেটে ৫৪, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।