ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের তদারকি জোরদার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি গুমের সাথে জড়িত অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতে, বিগত সাত মাস ধরে দেশের নানা প্রান্তে শিশু গুম ও নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনক এবং উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলায় জনমনে গভীর নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সামাজিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরও সূচক তৈরি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো সন্ধান না পাওয়া শিশুরা কোনো মানবপাচারকারী দলের হাতে পড়েছে কি না, কিংবা অসৎ কোনো অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ছে কি না—তা নিয়ে জনসাধারণের মনে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।হঠাৎ করে শিশুদের এভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা সমাজে নিরাপত্তার চরম অভাবকেই প্রকট করে তুলছে।
সংগঠনটি জানায়, বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলার সময়, বিদ্যালয় থেকে ঘরে ফেরার পথে, নানা প্রলোভনে পড়ে কিংবা অচেনা জায়গায় ভ্রমণে গিয়ে পথ হারিয়ে বহু শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি তাদের হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পাশাপাশি শিশু নিখোঁজ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা অপরাধী সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সুনিশ্চিত করার দাবি তোলে সংগঠনটি।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজের বিষয়ে সর্বমোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কিংবা তারা স্বজনদের কাছে ফিরে গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু।