সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার চেয়েছে দুদক

ডেস্ক / ১৪ মোট শেয়ার
হালনাগাদ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওসমানীসহ সব সরকারি হাসপাতালের জন্য সরকারের ৭ নির্দেশনা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের সময়মত না আসা ও আগেই হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগ তদন্তে এবার হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার ( কাজের সময় ভাগ করে দেওয়ার তালিকা) চেয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের চাহিদার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্ব স্ব বিভাগের কাছে চিকিৎসকদরে ডিউটি রোস্টার তলব করেছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত কিছু চিকিৎসক সময়মত হাসপাতালে আসেন না ও সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়টি তদন্তে গত ৮ সেপ্টেম্বর দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি বিশেষ দল হাসপাতালটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে চিকিৎসকদের কর্মকন্টা না মানার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে সংস্থাটি।এরপর দুদকের পক্ষ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার, বায়োমেট্রিকের তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়। দুদক সিলেট কার্যালয় থেকে এই এসব ডকুমেন্ট চাওয়ার পর উদ্যোগী হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ আগস্ট মাসে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কে. এম. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দুদকের চাহিদা অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হাসপাতালে কর্মরত সব চিকিৎসকের ডিউটি রোস্টার জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এক কর্মদিবসের মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

দুদকের পরিদর্শনের পর চিকিৎসকদের আগস্ট মাসের ডিউটি রোস্টার চাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোস্টারে উল্লেখ করা দায়িত্বের সময়সূচির সঙ্গে চিকিৎসকদের বাস্তব উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।এ ব্যাপারে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ পরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, আমরা সবগুলো তথ্য সংগ্রহের পর বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে ঢাকা কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবো। এরপর ঢাকার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এরআগে গত ১ আগস্ট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।


এই বিভাগের আরো খবর