এলপিজির দাম বাড়ানোর পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে অধিকাংশ কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৬৩ থেকে ২৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।সরেজমিনে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ, কাণ্ঠাপাড়া, বলড়া ও ঝিটকা বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার নেই। ব্যবসায়ীদের কাছে শুধু পেট্রোম্যাক্স গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাভেদে ১২ কেজির পেট্রোম্যাক্স সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। তাদের আরও অভিযোগ, অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলেও অনেক সরবরাহকারী কোনো ক্যাশ মেমো দিচ্ছেন না পিপুলিয়া এলাকার ব্যবসায়ী তামিম খান বলেন, ডিলারের কাছ থেকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৫০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। সেটি ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। তার ভাষ্য, “আমরা যেভাবে কিনব, সেভাবেই তো বিক্রি করতে হবে। এখন বিক্রি না করলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে পরিবার চালাব কীভাবে?”
ঝিটকা বাজারের ব্যবসায়ী অপু সাহা বলেন, তাদের কাছে শুধু পেট্রোম্যাক্স গ্যাস রয়েছে। অন্য কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার সরবরাহ নেই। ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকা করে কিনে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।লেছড়াগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানেও শুধু পেট্রোম্যাক্স গ্যাস রয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ২ হাজার টাকায়। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে সরবরাহকারীরা অতিরিক্ত দাম নিলেও ক্যাশ মেমো দেন না বলেও অভিযোগ করেন।
হরিরামপুরে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সরবরাহ করে গোপীনাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার সাফাত এন্টারপ্রাইজ। ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার তুহিন বলেন, তাদের বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে। এসব খরচের কারণে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে।হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, খুব দ্রুত এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি কিংবা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে গত রবিবার বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২১ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়।