মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে করা স্ত্রীকে ভারতে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন স্বামী। সিলেট সীমান্ত দিয়ে পাচারের আগে পুলিশ উদ্ধার করেছে ওই তরুণীকে। একইসাথে আটক করা হয়েছে স্বামীসহ পাচারকারীচক্রের চার সদস্যকে।সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে জাফলংয়ের প্রজাপতি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও উদ্ধার হওয়া নারীর স্বামী আশিকুর রহমান, নিশ্চাম গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম, পালগাঁও গ্রামের মোনছের আলীর ছেলে কাওছার এবং গোবুদিয়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে সাগর মিয়া।
পুলিশ জানায়, তিন মাস আগে আওলাতলী গ্রামের আশিকুর রহমান বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি স্ত্রীকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা নেন। একপর্যায়ে ভারতের পাচারকারীদের কাছে তিনি স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন। স্ত্রীকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের কথা বলে তিনি জাফলংয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে বল্লাঘাটের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। একই হোটেলে পরে ওঠেন আশিকুরের তিনবন্ধু। পাচার নিয়ে আশিক ও তাদের বন্ধুদের গোপন কথাবার্তা শুনে ওই তরুণী পুলিশে ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তরুণী গৃহবধূকে উদ্ধার ও পাচারকারীচক্রের চার সদস্যকে আটক করে।
উদ্ধার হওয়া নারী খুকি আক্তার মীম বাদী হয়ে সোমবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাচারের শিকার হতে যাওয়া নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার চারজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।